প্রকাশিত: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
জামাতে ইসলামী ইশতেহার
চমৎকার কিছু বিষয় নিয়া তারা সর্বোচ্চ জোর দিছে!
তার মধ্যে,
১) দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স,
তারা এমন একটা রাষ্ট্রব্যবস্থা চাইছে যেখানে দু্র্নীতি নাই হয়ে যাবে। শুধু তারা না এদেশের প্রত্যেকটা সাধারণ মানুষের মনের কথা দুর্নীতির কবর রচনা করা!
এদেশের মূল সমস্যা দুর্নীতি!
১০ বছর দুর্নীতি বন্ধ মানে দেশ অটোমেটিক সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া হয়ে যাবে।
দুর্নীতি বন্ধ না কইরা ৫০০ বছর উন্নয়ন উন্নয়ন জপলে কোন বা*লডাও হবে না!
২,খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা!
এদেশের মানুষের ভবিষ্যত অন্ধকার যদি খাদ্য নিয়া এখনি সচেতন না হয়।
দেখেন ,আমরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যা খাই প্রত্যেকটা জিনিস ভেজাল!
ভাতে ভেজাল, মাছে ভেজাল, মাংসতে ভেজাল, শাক সবজিতে ভেজাল, তেল, ডাল, দুধ,ডিম আমরা যা যা খাই প্রত্যেকটা জিনিসে ভেজাল!
এই ভেজাল খাইতে খাইতে লক্ষ লক্ষ তরুণরা পর্যন্ত ক্যান্সারে জীবন দিচ্ছে। ঘরে ঘরে হার্টের রোগী!
ডায়াবেটিস প্রত্যেকটা পরিবারে।
রোগের অভাব নাই, কারণ একটা দুধের বাচ্চা থেকে শুরু করে ৯০ বছরের মানুষটা পর্যন্ত ভেজাল খাচ্ছে!
নেতা আসে নেতা যায় কিন্তু কোন জানু** খাদ্য ভেজাল নিয়া কথা বলে না!
এতো ফালতু ফা**ক সিস্টেম পৃথিবীর কোন দেশে নাই।
৩,প্রতিরক্ষা খাতে সর্বোচ্চ উন্নয়ন:
পুরো বিশ্বটা বারুদ নিয়া খেলা করতেছে!
শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো দুর্বলদের হুদাই আক্রমণ করছে! ইচ্ছেমতো শোষণ করছে!
কিন্তু যারা সামরিকভাবে শক্তিশালী তাদের কেউ বা*লডাও ছিড়তে পারে না!
যেমন ধরেন, ইরানকে আমেরিকা ৪৮ বছর চেষ্টা করেও আজ পর্যন্ত ইরানের বা*লডা ছিড়তে পারে নাই।
পুরো মধ্যপ্রাচ্যে মিলে ই*রায়েলের একটা পশম ছিড়তে পারে না!
আমরা যদি শক্তিশালী না হয় ,তাহলে যে কোন সময় হুদাই দাদারা আক্রমণ করবে।
স্বার্থে আঘাত কিংবা মতের বিরুদ্ধে গেলে ট্রাম্পের মতো এদেশের সরকারকে উঠিয়ে নিতে চাইবে!
মিয়ানমার যে কোন সময় পার্বত্য অঞ্চলে আক্রমণ করবে!
সুজা কথা ,যুদ্ধের এই যুগে টিকে থাকতে হলে শক্তিশালী হওয়া ছাড়া কোন বিকল্প নাই।
শক্তিশালী হওয়া লাগবেই লাগবে!
কষ্ট লাগে স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও এদেশে সামরিক খাতে তেমন উন্নয়ন করে নাই!
অথচ বন্ধু বন্ধু গল্প শুনাইয়া বিশ্ব থেকে ৫০ বছর পিছিয়ে রাখছে!
চু**রের বাচ্চারা কোটি কোটি টাকা লুটপাট করে পালিয়ে গেছে!
৪,সবার জন্য সুচিকিৎসা নিশ্চিত:
এদেশের মানুষের জীবনে ৭০% উপার্জন খরচ হয় শুধু চিকিৎসা করাইতে গিয়া!
মেক্মিমাম মানুষ মারাত্মক রোগ নিয়া ঘুরছে টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারে না।
হাসপাতাল ,ডাক্তার করে আরেক ডাকাতি।
হাসপাতাল করে টাকার জন্য টেস্ট আর সিট বানিজ্য
আর ডাক্তার করে কমিশন আর ঔষধ বানিজ্য।
ভোয়া আর বাটপার ডাক্তারের ছড়াছড়ি, ভুল চিকিৎসা দিয়া মেরে ফেলার ইতিহাস অভাব নাই।
যারা ভালো মানের ডাক্তার তারা দেশে থাকছে না কারণ সরকার তাদের রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।
কোন সরকারই এই সেক্টরে মনোযোগ দেয় না।
কারণ সা**রা দেশে চিকিৎসা করায় না!
দেশে টেস্ট করায় না! লুটপাটের টাকা দিয়া মাউন্ট এলিজাবেথে চলে যায়।
রাতারাতি সিঙ্গাপুর, কুয়েত চলে যায়!
কিন্তু দেশের মেক্মিমাম মানুষ রোগের যন্ত্রণা নিয়া ধুকে ধুকে মরে!
৫,প্রত্যেকটা মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি আর উন্নত প্রশিক্ষণ :
এদেশের মূল সমস্যা কর্মসংস্থান!
চান্দাবাজি, চুরি ,বাটপারি, ছিনতাই, সন্ত্রাসী কেন হয়?
বেকারত্বের কারণে।
কারণ কাজ আছে ৫ জনের মানুষ ১০ জন।
আর ৫ জন কি করবে?
চুরি করবে, বাটপারি করবে, রাজনীতি করে চান্দাবাজি ,ট্রেন্ডারবাজি করবে!
নেতা আসে নেতা যায় কোন সা***রা আর কর্মসংস্থান নিয়া ভাবে না!
বরং লোভী জাতিরে লোভ দেখাইয়া কাজকাম ছাড়া এই কার্ড দিবো সেই কার্ড দিবো বইলা অল্প শিক্ষিত,মূর্খ শ্রেণিটারে নির্বাচনে জাস্ট ইউজ করে।
দিন শেষে কর্মসংস্থান নিয়া ভাবে না!
অথচ আজকের চীন জাপান উন্নত কারণ তারা তাদের মানব সম্পদরে জনসম্পদে রুপান্তর করছে।
কেউ বাঙালি বেকার লোভীদের মতো বেকার খায় না।
সবাই রাজনীতি করে কোটি কোটি ঘণ্টা অপচয় করে না।
বিদেশে যায় বেকার ঘুরে কারণ তাদের কাজের কোন স্কিল নাই!
৬, তরুণদের জন্য আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা!
একটা জাতির মেরুদণ্ড হইলো শিক্ষা!
তথাকথিত বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো চায় না জাতি শিক্ষিত হোক।
তারা জানে জাতি শিক্ষিত হয়ে গেলে দলগুলো নাই হয়ে যাবে। তাদের বাটপারি জাতি ধরে ফেলবে!
বাঙালি কাজে লেগে গেলে নেতারা আর মিছিলের জন্য কর্মী খুঁজে পাবে না!
কোন নলেজলেস, কান্ডজ্ঞানহীন মাফিয়ারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না!
পরিবারতন্ত্র নাই হয়ে যাবে!
অথচ এদেশে সবচেয়ে বাটপারি চলে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়া! সব সা**রা রাজনীতি করে।
শিক্ষক, ছাত্র সবাই রাজনীতি করে!
বাটপারি সিস্টেমে নামে মাত্র পড়াশোনা করে বেকার তৈরি করছে। শিক্ষক হয় লবিং করে!
সা**রা শুধু মিটিং আর রাজনীতি নিয়া ব্যস্ত!
শিক্ষার নামে চলে টিউশন ব্যবসা।
কি একটা মেরুদণ্ডহীন প্রজম্ম তৈরি হচ্ছে কারো কোন হুশ নাই।
৭, বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত :
বাংলাদেশের সবকিছুর জন্য দায়ি বিচার ব্যবস্থা!
এমন ফা*ক সিস্টেমের বিচারব্যবস্থা পৃথিবীর কোন সভ্য দেশে নাই!
এদেশে টাকার কাছে বিচার বিক্রি হয়।
ক্ষমতা যেদিকে রায় যায় সেদিকে।
খুন হয়, গুম হয়, ধর্ষণ হয় কিন্তু বিচায় হয় না!
বিচার না হওয়ার কারণে দেশে অপরাধ বাড়ছে।
সিন্ডিকেট সন্ত্রাসীরা সিন্ডিকেট করছে।
চাঁন্দাবাজি করছে, ঘুষ বানিজ্য চলছে!
যার যার মতো চলছে ,খাদ্য ভেজাল থেকে চিকিৎসা পর্যন্ত যতো অনিয়ম সবই চলছে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে!
মাফিয়ারা দু্র্নীতিবাজরা রাজত্ব করছে বিচারহীনতার কারণে।
সুজা কথা ,বিচার নিশ্চিত হলে এদেশের অপরাধ ৯০% অটোমেটিক কমে যাবে!
কিন্তু নেতারা বিচার নিশ্চিত হোক সেটা চায় না!
কারণ বিচার নিশ্চিত হলে সা**দের রাজনীতির লাল বাতি জ্বলে যাবে।
কোন ঋণখেলাপী ব্যাংক ডাকাত আর দ্বৈত নাগরিকত্বধারী এমপি মন্ত্রি হতে পারতো না!
৮, জবাবদিহিতা, বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত।
জবাবদিহিতা যদি থাকে তাহলে কোন দুর্নীতিবাজ আর দুর্নীতি করতে পারবে না!
কেউ স্বৈরাচার হতে পারবে না।
ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারবে না!
সরকারি বড় বড় কর্তা ,এমপি ,মন্ত্রীরা আর ঘুষ বানিজ্য করতে পারবে না!
সবচেয়ে বড় কথা হলো ৪১ টা ইশতেহারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব ৭ টা বিষয় আমার মনটা কেড়ে নিছে!
যদি নতুন বাংলাদেশ চান ,তাহলে যারা এই ইশতেহারগুলো দিয়ে সততার সাথে কাজ করতে পারবে তাদের নির্বাচিত করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য!
জামাতের জন্য শুভ কামনা!
বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক!!!
--- আনিসুর রহমান।
