প্রকাশিত: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:০১ পিএম
রাজনৈতিক শক্তি ও সাফল্যের বিচারে জামায়াতের অবস্থান
এর আগে জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে মাত্র তিনটি আসনে বিজয়ী হয় এবং তাদের ভোট ছিল সম্ভবতঃ ৫% এর কাছাকাছি। সেই জামায়াত এবার ক্ষমতার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। ক্ষমতার রাজনীতিতে জামায়াতের এই অভাবনীয় উত্থানের পিছনে কারণ কী হতে পারে?
বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রধান দুই শক্তি বিএনপি এবং আওয়ামীলীগ। যতবার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে এই দুই দলই পালাকরে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় গিয়েছে।
রাজনৈতিক শক্তি ও সাফল্যের বিচারে জামায়াতের অবস্থান ছিল জাতীয় পার্টিরও নিচে।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর জামায়াত এখন দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। বলা হচ্ছে, ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে জামায়াত-জোট শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। কেউ কেউ জামায়াতকে ক্ষমতার খুব কাছাকাছি ভাবছে।
এটা সত্য, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি হেসে খেলে জয় পাবে না। অধিকাংশ আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা ভালো ফাইট দিবে। কিছু অঞ্চলভেদে দুই দলেরই একক আধিপত্য থাকলেও সম্ভবতঃ একটি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে।
ভোটের মাঠে আওয়ামীলীগের প্রার্থী নেই। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্বাভাবিকভাবেই আওয়ামিলীগের শূন্যস্থান দখল করেছে জামায়াত। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ভোটারকে হয় বিএনপি না হয় জামায়াতকেই ভোট দিতে হবে। সুতরাং এই সুবিধাটাই নিচ্ছে জামায়াতে ইসলাম। তাছাড়া, ভোটারদের মানসিক জগতেও কিছু পরিবর্তন লক্ষ্যণীয়।
ভোটের দিন ২৩% স্যুয়িং ভোটার বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এদের একটা বিরাট অংশ শিক্ষিত ও দলনিরপেক্ষ। এবারো এই ভোটাররাই শেষ বাঁশি বাজাবে। এরা যেদিকে টার্ন নিবে ক্ষমতার চাবি তাদের হাতেই উঠবে।
বাংলাদেশ, তার শিক্ষাব্যবস্থা, সামাজিক অগ্রগতি এবং সম্প্রীতি ও মূল্যবোধের রক্ষায় এই নির্ণায়ক শ্রেণী ভোটের বাক্সে ভুল করলে দেশ আবারো দীর্ঘ মেয়াদে গর্তে পড়ে যেতে পারে।
আমার বিশ্বাস এই ভুল তারা করবে না।
কলাম,
হাসিম উদ্দিন আহমেদ
প্রধান শিক্ষক
সাখুয়া আদর্শ বিদ্যানিকেতন।
