🔎 নিউজ অথেন্টিক নির্ভযোগ্য সত্য সংবাদ
শনিবার ০৬, জুন ২০২৬

শনিবার ০৬, জুন ২০২৬ -- : -- --

রমজানে এসব সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে বেশি দামে পণ্য।

নিউজ অথেন্টিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম

রমজানে এসব সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে বেশি দামে পণ্য

আমরা যখন নির্বাচনের আমেজ নিয়ে লাফালাফি করছি, মজা করছি ঠিক সেই সময়ে সাগরে ৬০০ টা পণ্যবাহী জাহাজ সমুদ্রে ভাসতেছে।

আই রিপিট ৬০০ টা জাহাজ! 

প্রথমে মনে হতে পারে সমুদ্রে জাহাজ ভাসবে এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু না, এটা স্বাভাবিক না কারণ এই জাহাজগুলোকে ইচ্ছে করে ভাসিয়ে রাখা হয়েছে।

কারণ জাহাজ গুলোতে গম, ছোলা, ডাল, সয়াবিন তেল আছে, রমজান মাসের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আছে।

ব্যবসায়ীরা জাহাজগুলোকে ইচ্ছে করে ভাসিয়ে রেখেছে যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রোযাতে দাম বাড়ানো যায়। 

আগে ওরা গুদামে রেখে সংকট তৈরি করে দাম বাড়াতো কিন্তু ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে এখন জাহাজে রেখেই সংকট তৈরি করে তারপর আকাশচুম্বী দাম বাড়ায়। 

এই ৬০০ টা জাহাজে ১০ লক্ষ টন খাদ্যদ্রব্য আছে। এক দুই টন না কিন্তু দশ লক্ষ টন!

কয়েকটা গ্রুপের সিন্ডিকেট মিলে এই সংকটটা তৈরি করে রেখেছে। 

রোযা কাছাকাছি আসলে তখন মালগুলো নামানো শুরু হবে, জনগণের পকেট কেটে চড়া দামে বিক্রি করা হবে। তখন আমরাও বাধ্য হব বেশি দামে কিনতে।

সরকার থেকেও খুব বেশি পদক্ষেপ নেয়া হয়নি এ ব্যাপারে। নিবে কিভাবে? বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সরকারি লোকেরাও জড়িত থাকে এসব সিন্ডিকেটের সাথে।

অন্যান্য দেশের ব্যবসায়ীরা যখন রমজান উপলক্ষে দাম কমানোর চেষ্টা করে আমাদের দেশের বাটপার ব্যবসায়ীরা তখন রমজানে কিভাবে দাম বাড়ানো যায় সেই ফন্দি ফিকির আঁটতে থাকে।

আল্লাহ তায়ালা ব্যবসায়ে রহমত দিয়েছেন, বরকত দিয়েছেন। এমনকি সৎ ব্যবসায়ীদেরকে হাশরের দিন শহীদদের সাথে এক কাতারে রাখার ঘোষণাও দিয়েছেন। 

অথচ তবুও আমাদের দেশের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটরা চেষ্টায় থাকে কিভাবে জনগণের পকেট কাটা যায়, কিভাবে দশটা টাকা বেশি রাখা যায়। 

যদি রমজানে এসব সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে বেশি দামে পণ্য কিনতে না চান, যদি ১৮০ টাকার তেল ২৫০ টাকায় কিনতে না চান তাহলে এখনই কথা বলুন, আওয়াজ তুলুন। এসব বাটপার ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটদের নির্মুল করুন। 

আর নয়তো প্রথম রোযার দিন খুশিমনে বাজার করতে গিয়ে দেখবেন তেল নুন থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা পণ্যের দাম, কাঁচামালের দাম বাড়তি। 

তখন মনখারাপ করে খালি ব্যাগ নিয়ে বাসায় ফিরা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না কিন্তু!

এই জন্যই হয়ত মানুষ বলে, আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা সারা বছর করে চুরি আর রমজান আসলে করে ডাকাতি।

তবে আশার খবর ইউনুস সরকারের বন্দর পরিচালনাকারীগণ লাইটার জাহাজে মজুত রাখা পণ্য সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করবে।

অভিযান পরিচালনা করলে তো মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার রোজায় কিছুটা স্বস্তি বোধ করবে কিন্তু তারাও যদি টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যায় বা সিন্ডিকেটকারীদের কাছে মাথা নত করে তাহলে মানুষের ভোগান্তির আর শেষ হবে না।

ইউনুস সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সবগুলো বন্দরকে যদি বিদেশী অপারেটরদের কাছে দিয়ে যেতে পারতেন তাহলে দেশবাসী কতটা সুফল ভোগ করতে পারতো তা লিখে শেষ করা যাবে না।

কিন্তু বিপত্তি এখানেও, বাম ও বিএনপির লোক মিলে বিদেশীদের কাছে বন্দর পরিচালনার ভার দেওয়া যাবে না এই নিয়ে আন্দোলন করে যাচ্ছে বিগত কয়েকদিন। হাইকোর্টের রায়কে তারা উপেক্ষা করে এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে যার জন্য বন্দর কর্তপক্ষ ইতিমধ্যে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।

কয়েকদিন আগের রিপোর্ট অনুযায়ী এই ইউনুস সরকার বিগত ২০২৫ সালে সব খরচ ও ভ্যাট ট্যাক্স বাদ দিয়ে আয় হিসেবে সরকারের কোষাগারে ১ হাজার ৮০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

 

Link copied!
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ ফরহাদ আহমেদ জনি। প্রকাশনাঃ মজিদা খাতুন। 🏠 গ্রীন রোড, কলাবাগান, ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৫।